কবি আকমাল হোসেন এর কবিতা এবার টি-শার্টে
কবিতা লিখছেন প্রায় তিন দশক। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তার আটটি কাব্যগ্রন্থ। এপার বাংলা, ওপার বাংলা মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার কবিতা, কবিতা বিষয়ক গদ্য ও কালিয়াচক তথা মালদহের সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণামূলক প্রবন্ধ। তার কবিতা অনূদিত হয়েছে ইংরেজি ভাষায়ও। তার কবিতা নিয়ে কলম ধরেছেন এ সময়ের কবি তৈমুর খান, গল্পকার মোহাম্মদ জিকরাউল হক সহ অনেকে। তার কবিতায় বরাবর উঠে আসে সমসাময়িক জীবনযাপনের চালচিত্র।
কথা বলছি কবি মহম্মদ আকমালকে নিয়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার কাব্যগ্রন্থ 'হামরা কালিয়াচকের লোক'। তথাকথিত প্রমিত বাংলা ভাষার বাইরে বাংলা ভাষার যে অস্তিত্ব আছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় গ্রাম বাংলায় ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষার মাধ্যমে। বিশ্বায়নের যুগে আঞ্চলিক ভাষার উপর প্রভাব পড়ছে খুব। তাই আঞ্চলিক ভাষাকে অবিকৃত রাখতে বা বাঁচিয়ে রাখতে কলম ধরছেন বর্তমান সময়ের বহু কবি-সাহিত্যিক। গ্রামে গঞ্জে গড়ে উঠছে আঞ্চলিক ভাষা রক্ষা কমিটি। লেখার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টের ভাষায়ও ব্যবহার করা হচ্ছে আঞ্চলিক ভাষা, যেন আর যা'ই হোক ভাষাগুলো বেঁচে থাকুক অবিকৃত ভাবে। কলকাতা কেন্দ্রিক পাঠ্যপুস্তক নির্ভর ভাষায় লিখিত সাহিত্য কিংবা বিনোদনমূলক সংলাপে মানুষের মন যখন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে তখনই গ্রাম বাংলার ভাষায় এক রাশ ভালোবাসা মিশিয়ে বানানো এই সব কন্টেন্ট মানুষকে দিচ্ছে প্রাণের সুখ। সেই ধারা বজায় রাখতে ও কালিয়াচক এলাকার ভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে মালদহ জেলার কালিয়াচকের ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন কবি আকমাল হোসেন। সম্প্রতি শেরশাবাদিয়া বিকাশ পরিষদ থেকে প্রকাশিত 'হামরা কালিয়াচকের লোক' কাব্যগ্রন্থটিতে প্রকাশিত হয়েছে সেই কবিতাগুলোই।
কবিতা লেখার মুনশিয়ানা জন্য একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি, পেয়েছেন স্বারক পত্রও। 'এই মাসের কবি' শিরোনামে তাকে ও তার কবিতাকে সম্মান জানিয়ে ছাপাও হয়েছে তার একগুচ্ছ কবিতা। এবার তার সম্মানের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অভিনব একটি সম্মান। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তার লেখা কবিতার লাইন লেখা হয়েছে টি-শার্টে। 'কালিয়াচকের লোক হামরা' নামক একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা তাদের তৈরি টি-শার্টে ব্যবহার করেছেন কবি আকমাল হোসেন এর লেখা দুটি লাইন, 'হাংরে নামে যেত্তা কিস্সা হোক/ হামরা কালিয়াচকের লোক।'
কারণে-অকারণেই শিরোনামে থাকে কালিয়াচকের নাম। 'কালিয়াচকের লোক হামরা' ফেসবুক গ্রুপের জান্নাতুল ফেরদৌস, আবু রাইহান, নাসিমুল মোমিন, ওয়াসিম আখতাররা মনে করেন কারণে অকারণে বদনাম করে রাখা হয়েছে কালিয়াচকে, যা আদতে সত্য নয়। তার প্রমান কালিয়াচকের শিক্ষার্থীদের অনবদ্য সাফল্য। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়েও সমান ভাবে সফল কালিয়াচক। এরকম একটি জায়গাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদ শিরোনামে এনে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন কালিয়াচকের লোক হামরা গ্রুপের সদস্যরা। তাই কালিয়াচকের যা কিছু ভালো সেসব বিষয়ে কথা বলা এবং নিয়মিত ভাবে আলোচনা করা দারুণভাবে দরকার বলেও মনে করেন তারা। তাই কালিয়াচকের ঐতিহ্যবাহী পেশা, সংস্কৃতি ও ভাষার পাশাপাশি কালিয়াচকের রকমারি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই ফেসবুকে তৈরি করেছেন 'কালিয়াচকের লোক হামরা' নামক গ্রুপটি।
১৫ হাজার সদস্য সংখ্যা বিশিষ্ট এই গ্রুপে প্রতিদিন কালিয়াচকের ভাষায় প্রকাশিত হয় রকমারি লেখা ও ভিডিও। কালিয়াচকের তরুণদের তার প্রতি এই অভিনব সম্মান দেখে রীতিমত মুগ্ধ কবি আকমল হোসেন। তিনি বলেন, "কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কবিতার লাইন দেখেছি বিভিন্ন ফতুয়া বা জামায়। কখনোই ভাবিনি যে আমার লেখা লাইন কেউ কখনই টিশার্টে ব্যবহার করবে। তাদের এই প্রয়াস আমার লেখার অনুপ্রেরণা যোগাবে। তাদেরকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।"
Comments
Post a Comment